ঋতু কেন বদলে যায়?

মূলত আবহাওয়া এবং তাপমাত্রার তারতম্যের কারনেই প্রতি দুই মাস অন্তর ঋতু পরিবর্তন হয়। তবে এর জন্য পৃথিবীর ঘূর্ননকেও সমানভাবে দায়ী করা যেতেই পারে। অর্থাৎ পৃথিবী ৩৬৫ দিনে সূর্যকে প্রদক্ষিন করার পাশাপাশি প্রতি ২৪ ঘন্টায় নিজের অক্ষের উপরেও পাক খায়। পৃথিবী নিজের মেরূদন্ডের উপর পাক খায় বলেই দিন রাত হয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত।গবেষনা অনুসারে পৃথিবীর অক্ষ একপাশে ২৩.৫ ডিগ্রী হেলে থাকার জন্য পৃথিবীর বার্ষিক গতিতেও পরিক্রমার সাথে সাথে সূর্যকিরনের নতিও বদলাতে শুরু করে। সাধারনত পৃথিবীর যে গোলার্ধ যখন সূর্যের দিকে হেলে থাকে তখন সেই অংশটিতে বেশী তাপপ্রবাহ চলতে থাকে। সেই কারনেই ২২শে জুনের কাছাকাছি সময়ে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকায় সেখানে সূর্যরশ্মি অপেক্ষাকৃত লম্বভাবে আপতিত হয়। ফলস্বরূপ সূর্যকিরন তখন মাটিতে খুব কম জায়গার উপর পড়ে। এর জন্য মাটি বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় উত্তর গোলার্ধে দিন দীর্ঘতর হয় সে কারনেও দিনের ব্যাপ্তি অনেকটা সময় নিয়ে হয়, এই জন্যই পরিবেশে উত্তাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। আহ্নিক গতির জন্য এবং পূর্বে আলোচিত দুটি কারনের উপস্থিতির কারনে পুরো উত্তর গোলার্ধটাই এককভাবে বেশী মাত্রায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

why-seasons-change-on-earth

শীতকালে এর সম্পূর্ন উলটো পরিস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। সেজন্যই ২২ শে ডিসেম্বরের কাছাকাছি সময়ে তাপমাত্রা খানিকটা নরম হয়ে আসে। তখন দিন হয় সবচেয়ে ছোট এবং রাত হয় দীর্ঘতর। এছাড়াও এসময় আবহাওয়ায় থাকে হিমেল পরশ। এই সময় সূর্যকিরন খানিকটা হেলে পড়ে এবং সেটিকে পৃথিবীপৃষ্ঠে আপতন কালে বেশ পুরু বায়ুস্তর ভেদ করে আসতে হয়। এর ফলে বায়ু বেশি তাপ শুষে নেয় এবং সূর্যের আলোর তেজ কমে যায়। প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় এই ঘটনার পুনরাবৃত্তির ফলে সূর্যের তাপকে খানিকটা নিস্তেজ মনে হতে থাকে। তবে শীতকালে সারা দিন ধরে এই ঘটনা ঘটে বলেই শীতকালের রোদ্দুর নরম এবং আরামদায়ক মনে হয়। মেরু অঞ্চলে সূর্যকিরন অনেকখানি তির্যকভাবে পড়ে বলেই ওখানে শীত খুব বেশী।

সূর্যকে প্রদক্ষিন করার সময় ২২শে জুনের পর থেকে পৃথিবী যতই এগোতে থাকে ততই পৃথিবীর হেলে থাকা উত্তর গোলার্ধটিও সূর্যের সামনে থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে। ২১ শে সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি আসলে দিন ও রাতের সময় দুটোই সমান হয়ে যায়। এই সময় তাপমাত্রা নাতিশীতোষ্ণ অবস্থায় থাকে এবং উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল চলে আসে। বিঞ্জানের ভাষায় এই দিনটি জলবিষুব নামে পরিচিত হয়। ঠিক এর উলটো বিষয় ঘটে ২২শে ডিসেম্বর থেকে ২২শে জুনের আগের অবস্থায় ফিরে আসার মাঝামাঝি সময়ে। ২১ শে মার্চ নাগাদ উত্তর গোলার্ধে তখন বসন্তের কোকিল ডাকতে শুরু করেছে। এই সময়েও দিন রাত সমান হয়। এই সময়টাকেও বিঞ্জানের ভাষায় মহাবিষুব বলা হয়।

Follow Our Facebook Page