আকাশ ও পৃথিবী
পৃথিবী ঘুরছে অথচ আমরা সেটা বুঝতে পারি না কেন ??
আমরা সকলেই জানি যে পৃথিবী সূর্‍্যের চারিদিকে নিজের মারূদন্ডের উপর অবিরাম পাক খেয়ে চলেছে একে বলা হয় আহ্নিক গতি। পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই গতি একট বেশীই পরিলক্ষিত হয়, প্রায় প্রতি সেকেন্ডে ০.০৪৬৪ এর মত। তবে এই নীরক্ষীয় অঞ্চল থেকে যতই উত্তর ও দক্ষিণ মেরুবলয়ের দিকে যাওয়া হয় ততই যেন পৃথিবীর গিত কমে আসে বলেই মনে হয়। এতো গেল আহ্নিক গতির কথা। এবার আসি বার্ষিক গতির কথায়। পৃথিবী প্রায় সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার বেগে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে চলেছে। কিন্তু পৃথিবীর এই দুটি প্রচন্ড গতি কিন্তু আমরা একেবারেই বুঝতে পারিনা। এর প্রধান কারন হল, পৃথিবীর মাধ্যকর্ষন শক্তি। মূলত এর জন্যই পৃথিবীর টানে আমরা সকলেই ঘুরে চলেছি পৃথিবীর সাথে। শুধু আমরা নই আমাদের সাথে ঘুরে চলেছে আমাদের চারপাশে থাকা ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট গাছপালা প্রভৃতি সবকিছুই।আমাদের আশেপাশের পরিবেশের তুলনায় আমরা স্থির বলেই নিজেদের এবং সেইসঙ্গে পৃথিবির ঘোরার ব্যাপারটা আমরা থিক বুঝতে পারিনা। যেমন আমরা যদি চলন্ত ট্রেনে বসে থাকি তবে ট্রেনের বাইরে তাকালে মনে হয় সব কিছুই যেন উলটো দিকে ছুটে চলেছে। আসলে ট্রেনের কামরায় বসে বাইরের দিকে না তাকালে বোঝাই যায়না যে ট্রেনটা চলছে। এই একই কারনে পৃথিবীর ঘোরাটাও আমরা ঠিক বুঝেও বুঝে উঠতে পারিনা।

সূর্য আলো দেয় কেন ??

পৃথিবী থেকে সবসময় আমরা চাঁদের একটা পিঠই দেখতে পাই কেন ??
মহাকাশে যেসব গ্রহ উপগ্রহ বা অন্যান্য জ্যোতিষ্করা বিচরন করে তারা প্রত্যেকেই নিজের অক্ষের উপর পাক খায়। পৃথিবীর সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজের মেরুদন্ডের উপর পাক খেতে সময় লাগে ২৪ ঘন্টা। চাঁদও পৃথিবীকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৃথিবীর চারিদিকে পাক খেয়ে চলেছে। পৃথিবীর চারপাশে একবার ঘুরে আসতে চাঁদের সময় লাগে প্রায় ২৭.৩২ নক্ষত্র দিন। অর্থাৎ এক মাসের চেয়ে কিছু কম। অদ্ভুত বিষয় হল, চাঁদ তার নিজের অমেরুদন্ডের উপর পাক খেতেও ওই একই সময় নেয়। অর্থাৎ চাঁদের নিজের অক্ষের উপর পাক খেতে ও পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিন করতে একই সময় লাগে। ঠিক এই জন্যই পৃথিবীর যেকোন স্থান থেকেই চাঁদের একপিঠই আমাদের নজরে আসে।

ঋতু বদলায় কেন ??

এক গ্রহের সাথে অন্য গ্রহের ঠোকাঠুকি লাগে না কেন ??

তারারা মিটমিট করে কেন ??

ঝড়ের আগে চারিদিকে থমথমে হয়ে যায় কেন ??
কোন জায়গায় ঝড় হবে কিনা তা নির্ভর করে পারিপার্শ্বিকের তুলনায় সেই জায়গার বাতাসের চাপের ওপর। কোনো জায়গায় বাতাসের চাপ কমে গেলে, অর্থাৎ নিম্নচাপের পরিবেশ তৈরি হলে, অপেক্ষাকৃত উচ্চচাপের বাতাস চারদিক থেকে প্রবল বেগে ছুটে আসে সেই নিম্নচাপের দিকে। এটাই হলো ঝড়। ঝড়ের আগে অর্থাৎ নিম্নচাপ সৃষ্টির প্রস্তুতিপর্বে, সে জায়গায় বাতাস চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, ফলে চারদিক থমথম মনে হয়। বাতাস চলাচল বন্ধ না হয়ে, যদি বজায় থাকত তাহলে তো নিম্নচাপ কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ পেত না। সে কারণেই ঝড়ের আগে চারিদিক থমথমে হয়ে যায়।

কোথায় আগুন লাগলে আশেপাশে বাতাস জোরে বয় কেন ??

ধুমকেতুরা মাঝে মাঝে আকাশে দেখা দিয়ে মিলিয়ে যায় কেন ??

উদয় অথবা অস্তের সময় সূর্যকে লাল দেখায় কেন?

গভীর সমুদ্রের জল নীল, কিন্তু বেলাভূমির কাছে তা সবুজ বা ধুসর দেখায় কেন?
সূর্যের আলো তার সাতটি রং নিয়ে গভীর সমুদ্রজলে পড়লে সেই আলোকরশ্মি বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বিচ্ছুরিত হয়। এই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিশিষ্টতা সমুদ্রের জলকণার অণুর গঠন –বৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল ।বিচ্ছুরিত আলোকের অবলোহিত (ইনফ্রা-রেড) অংশটি জলে প্রায় পুরোপুরি শোষিত হয়ে যায়। লাল ও হলুদ অংশ জলের গভীর স্তরে বিচ্ছুরিত হয়ে, জলস্তর পেরিয়ে যখন ওপরে উঠে আসে তখন তার দীপনমাত্রা বিচ্ছুরিত নীলাভ অংশের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ে। নীলাভ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের জোরালো উপস্থিতিই গভীর সমুদ্রকে নীল করে রাখে। অগভীর অঞ্চলে প্রথমত, বিচ্ছুরিত লাল ও হলুদ তরঙ্গদৈর্ঘ্য তাদের দীপনমাত্রা ততটা হারায় না ; দ্বিতীয়ত, নানা বর্ণের শৈবাল, শৈবাল -উপজাত পদার্থের উপস্থিতি ও ঢেউয়ের আলোড়নে তলদেশ থেকে উঠে আসা পলি ও বালি অগভীর সমুদ্রের জলের বর্নকে সবুজ বা ধুসর করে তোলে।

শীতের ভোরে হাঁ করলে মুখ দিয়ে ধোঁয়া বেরোয় কেন?

মাঝে মাঝে আকাশ থেকে তারা খসে কেন?

ভুগোল সম্পর্কে আরও ভিডিও

 

ভৌতবিজ্ঞান
রং করার কিছুদিন পর ঘরের দেয়ালের চকচকে ভাবটা চলে যায় কেন?

স্টেনলেস স্টিলের বাসন আগুনে গরম করলে তার গায়ে নানা রঙের প্রতিফলন দেখা যায় কেন?

সাবানের রং আলাদা আলাদা হলেও সব সাবানের ফেনার রং সাদা কেন?

কাগজের টুকরো সাবানের গায়ে সেঁটে গেলেও পাতলা প্লাস্টিক সাবানের গায়ে আটকাতে চায় না কেন?

আকাশে মেঘ থাকলে গরমটা বেশি লাগে কেন?
দিনের বেলায় সূর্যের তাপ মাটিতে পড়লে প্রথমে মাটি তা শুষে নেয় এবং পড়ে তা বিকিরনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বাকাশে ছেড়ে দেয়। তাপের এই বিকিরন হয় নানা মাপের তরঙ্গের আকারে। মাটির এই তাপ বিকিরনের পালা বেশ রাত অবধি চলে। গরম বা বর্ষার সময় মাথার ওপর আকাশে মেঘ জমে থাকলে,মাটি থেকে বিকীর্ন তাপের যে তরঙ্গগুলো ছোট মাপের, সেগুলি মেঘ ভেদ করে চলে গেলেও বড় মাপের তরঙ্গগুলো মেঘের বাধা টপকাতে পারে না,সেগুলি মেঘের গায়ে ধাক্কা খেয়ে মাটির দিকে ফিরে আসে। মেঘলা দিনে বা রাতে ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ন তাপের একটা অংশ মেঘ ও মাটির মধ্যেকার বায়ুমিন্ডলে আটকে পড়ার ফলে মাটি এবং তার লাগোয়া বাতাসের স্তরঠান্ডা তো হয়ই না বরং বেশ গরম হয়েই থাকে। এতে আবহাওয়ার উষ্ণতা বেড়ে যায় বলেই গরমটা বেশি লাগে।

দেওয়ালে ঘুষি মারলে ব্যথা লাগে, অথচ তুলোর বালিশে মারলে লাগে না কেন?

ডাবের জল কাপড়ে লাগলে দাগ ধরে যায় কেন?

বড় হলঘরে আওয়াজ করলে প্রতিধ্বনি শোনা যায় কেন?

চলন্ত বাস থেকে নামার সময় সামনের দিকে তাকিয়ে নামতে হয় কেন ?
বাস যখন রাতায় চলে তখন বাসের গতিবেগ সঞ্চারিত হয় বাসের মধ্যে থাকা যাবতীয় জিনিস, অর্থাৎ,বাসের যাবতীয় কলকব্জা, মালপত্র এবং বাসের সমস্ত আরোহীর মধ্যে। আমাদের বাস যখন ঘন্টায় চল্লিশ কিলোমিটার বেগে দৌড়ায় তখন টের না পেলেও আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশের বেগ দাঁড়ায় ঘন্টায় ওই চল্লিশ কিলোমিটার। এটা টের পাওয়া যায় তখনই , যখন বাসটা হঠাৎ ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়ে ।শরীরের ওপরের অংশে কিন্তু আগের গতিবেগের রেশ থেকে যায়। সেই কারনেই, পা দাঁড়িয়ে পড়লেও শরীরের ওপরের ভাগটা এগিয়ে যেতে চায় সামনের দিকে ।এই কারনেই হঠাৎ ছুটতে ছুটতে বাসটা থেমে পড়লে, আমরা অনেক সময় সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ি।চলন্ত বাস থেকে নামার সময়েও একই আশঙ্কা থাকে।চলন্ত বাস থেকে রাস্তায় পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। পেছন দিকে মুখ করে চলন্ত বাস থেকে নামলে,বাস যেদিকে চলছে সেদিকে চিৎ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বাস থেকে নামার সময় সামনের দিকে নজর রেখে একটু পেছন দিকে হেলে নামলে, শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হবার আশঙ্কা থাকে না।

ছাতার কাপড়ের রং সাধারণত কালো হয় কেন?

বৃষ্টির জল ছাতার কাপড় ফুঁড়ে আমাদের গায়ে এসে পড়ে না কেন?

বরফ জলে ভাসে কেন?

মাটির কলসিতে জল ঠান্ডা থাকে কেন?
কুঁজো বা কলসি বানানোর সময় মাটির সঙ্গে খানিকটা বালিও মিশিয়ে নেওয়া হয়। ফলে, কলসির গায়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ছিদ্র থেকে যায়, যা খালি চোখে দেখা যায় না। গরমকালে কলসির জল ওই সব সুক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে চুঁইয়ে বাইরে এসে বাষ্প হয়ে উবে যায়। বাম্প হওয়ার জন্য যে তাপ দরকার তা আসে ওই জল থেকেই। জল থেকে ক্রমাগত তাপ বেরিয়ে যাবার দরুন তা ঠান্ডা হয়। মাটির কলসির গায়ে হাত দিলেই এই ঠান্ডা ভাবটা দিব্যি টের পাওয়া যায়। কলসির গা ফুঁড়ে জলের এই বাষ্পীভবন চলতেই থাকে বলে কলসির ভেতরের জলও ক্রমেই ঠান্ডা হতে থাকে। খেয়াল করলে দেখা যাবে, নতুন কুঁজো বা কলসিতে জল ঠান্ডা হয় বেশি। আসলে, মাটির কলসি যত পুরানো হয়, তার গায়ে ধীরে ধীরে শ্যাওলা পড়েয়ার ধুলোবালি লেগে ভেতরকার ছিদ্রগুলো ততই বুজে আসে। এর ফলে, ভেতরকার জলের বাইরে বেরিয়ে বাষ্প হয়ে উবে যাওয়ার হার কমে । জলও তাই আগের মতন আর ঠান্ডা হতে পারে না।

ডিম জলে ডুবলেও নুনগোলা জলে ভেসে ওঠে কেন?

টাটকা ডিম সেদ্ধ করার পর তার খোলা ছাড়াতে অসুবিধে হয় কেন ?

ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ে আরও ভিডিও