ধূমকেতুরা মাঝে মাঝে আকাশে দেখা দিয়ে মিলিয়ে যায় কেন?

সৌর পরিবারের সমস্ত গ্রহ নিজের নিজের কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। সূর্য প্রদক্ষিণের এই পথটা  অবশ্য চাকার মতো গোল নয়, বরং ডিমের মতো উপবৃত্তাকার। ধূমকেতুদের অধিকাংশই সৌর পরিবারের  সদস্য; সূর্যের টানে এরাও উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এদের চলার পথটা উপবৃত্তাকার হলেও  অনেকটা লম্বা পটোলের মতো। বহু বছর পর পর এরা যখন সূর্যের কাছাকাছি আসে, তখনই এরা পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়। ধূমকেতুর নিউক্লিয়াস গড়ে উঠেছে উল্কাপিন্ড-জাতীয় কঠিন বস্তুকণা, ধুলিকণা  বরফপিণ্ড আর হিমায়িত গ্যাসে। চলার পথে ধুমকেতু যতই সূর্যের কাছাকাছি চলে আসে, ওই নিউক্লিয়াস  থেকে সূর্যতাপে সৃষ্ট গ্যাস, বাষ্প, ধুলোর মিশ্রণের “মেঘ'ও আকারে বড় হয় আর উজ্ভ্বল দেহরূপ ধারণ করে। ওই গ্যাসীয় 'মেঘ' যেদিক থেকে তাপ লাগছে তার উলটোদিকে যেন ছুটে পালাতে থাকে । ক্রমে তার থেকে সৃষ্ট, হয় লম্বা পুচ্ছদেশ, যেটা সময়ে সময়ে কয়েক কোটি মাইল পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

আর এই অবস্থাতেই ধূমকেতুর আলোময় চেহারাটা ফুটে ওঠে আকাশের গায়ে। ধূমকেতুর নিউক্লিয়াস  অংশটি যতই সূর্যের কাছে আসে, ততই বেশি করে ধুলো আর বাষ্প বেরোতে থাকে বলে পুচ্ছটাও ততই  লম্বা হতে থাকে। সূর্যকে বেড় দিয়ে ধুমকেতু আবার উল্টোপথে ফিরে যাবার সঙ্গে সঙ্গে লেজ ছোট হতে থাকে। এবং ক্রমে ক্রমে সে আবার জমাটবাঁধা নিউক্লিয়াস অবস্থা ফিরে পায়, এবং আর দেখা যায় না।

তারপর, তার লম্বা কক্ষপথের অনাপ্রান্ত ঘুরে যতদিন সে আবার সুর্যের কাছে না ফিরে আসছে, ততদিন  তার আর দেখা মেলে না। অল্প সংখ্যক কিছু ধূমকেতুর কক্ষপথ অবশ্য অধিবৃত্তাকারও হয় -  যারা আর ফিরে আসে না।


কথায় বলে জ্ঞান শেয়ার করলে বাড়ে। নিচের বাটনগুলিতে ক্লিক করে আপনার আত্মীয়, বন্ধু এবং কোনো ছাত্র ছাত্রীকে ফেসবুকে অথবা হোয়াটস্যাপে এই লেখাটি শেয়ার করে দিন।

ভুগোল বিষয়ে আরও বিভিন্ন প্রশ্নের সহজ উত্তর

পৃথিবী ঘুরছে অথচ আমরা সেটা বুঝতে পারি না কেন ??

সূর্য আলো দেয় কেন ??

পৃথিবী থেকে সবসময় আমরা চাঁদের একটা পিঠই দেখতে পাই কেন ??

ঋতু বদলায় কেন ??

এক গ্রহের সাথে অন্য গ্রহের ঠোকাঠুকি লাগে না কেন ??

তারারা মিটমিট করে কেন ??

ঝড়ের আগে চারিদিকে থমথমে হয়ে যায় কেন ??

কোথায় আগুন লাগলে আশেপাশে বাতাস জোরে বয় কেন ??

ধুমকেতুরা মাঝে মাঝে আকাশে দেখা দিয়ে মিলিয়ে যায় কেন ??

উদয় অথবা অস্তের সময় সূর্যকে লাল দেখায় কেন?

গভীর সমুদ্রের জল নীল, কিন্তু বেলাভূমির কাছে তা সবুজ বা ধুসর দেখায় কেন?

শীতের ভোরে হাঁ করলে মুখ দিয়ে ধোঁয়া বেরোয় কেন?

মাঝে মাঝে আকাশ থেকে তারা খসে কেন?

গ্রহণ প্রায়ই হয় না কেন?

সাগরের ঢেউ তীরে এসে আছড়ে পড়ে কেন?

সমুদ্রের জল লোনা কেন?

সমুদ্রের ধারে এত বালি থাকে কেন?

কালবৈশাখীর ঝড় বিকেল বা সন্ধের মুখে হয় কেন?

শীতের সকালে কুয়াশা হয় কেন?

আকাশে নানারকমের মেঘ দেখা যায় কেন?

বৃষ্টি পড়ে কেন?

কোনো কোনো ঝরনার জল কখনোই শুকোয় না কেন?

ভুগোল সম্পর্কে আরও ভিডিও

Pls Visit & Subscribe Our YouTube Channel


Follow Our Facebook Page